digital abrasion
21Feb/112

অমর একুশে ২০১১ • বিশ্ব ছুটি দিবস

FULL IMAGE HERE: অমর একুশে ২০১১ • বিশ্ব ছুটি দিবস, originally uploaded by The Crownless King.

বিশ্ব ছুটি দিবস
- আকতার হোসেন

আসুন সকলের জন্য ভাবি, সকলের কথা বলি।

বেশ কয়েক বৎসর থেকে বলে আসছি কানাডা সরকার যেন একুশে ফেব্রয়ারীকে, অথার্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সরকারী ছুটির দিন ঘোষনা করে। বংলাদেশের বাইরে যদি অন্য কোন দেশের সরকারের ছুটি পাওয়া যায় তবে, একুশে ফেব্রয়াররীর গোটা চিত্রই বদলে যাবে। আমরা তারপর ধিরে ধিরে এগিয়ে যেতে পারবো দিনটিকে ঘিরে একটি বিশ্ব ছুটি দিবসের দিকে। পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেনি বটে, তবে কোন জায়গাতে সে সূর্য দেখা যাবে সে স্থানটি খুঁজে পাওয়া গেছে। যেদিন কানাডা বা বিশ্বের কোন উন্নত দেশ আনতর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষনা করবে সেদিন থেকেই গড়াতে থাকবে বিশ্ব ছুটি দিবসের চাকা।

মাতৃ ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করতে গিয়ে ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের ছেলেদের জীবন দিতে হয়েছিল। নজির বিহীন সেই ঘটনার উৎসভুমি বাংলাদেশের দিকে বিশ্বের নিপীড়িত জনগোষ্ঠির দৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলো আজকাল প্রেরনা পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা এখন পুরো দুনিয়ায় বলাবলি হচ্ছে। অথার্ত আনতর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাপ্তির অংশগুলো অন্যদের মাধে বিলিয়ে দেবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের ঘটনা সে কারনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষোনা দিয়েছে সেটা স্বাভাবিক পরিক্রমার মধ্যে পরে। সেই বলে অন্য দেশগুলো কেন কোটি কোটি টাকা লোকসান দিতে আরো একটি কাজ বিহীন দিনের কথা চিন্তা ভাবনা করেবে? এমন প্রশ্ন হয়তো কারো মাথায় চেপে বসতে পারে। তবে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সুফল বিশ্বের সমগ্র মানব জাতির মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে বাংলাদেশের বাইরের অন্য কোন জাতিকেও এগিয়ে আসতে হবে। শুধু এগিয়ে এলেই চলবে না, স্পষ্ট করে বলতে হবে মানব সভ্যতার সব চেয়ে বড় সম্পদ মানব ভাষা যা কিনা অন্যান্য প্রানী জগত থেকে আমাদের আলাদা হতে সাহায্য করেছে সেই মুখের ভাষার বিপদ কালে মানবগোষ্ঠি পক্ষ থেকে সব জাতির প্রতিনিধি হয়ে বাঙালিরা যে মহানুবতা দেখিয়েছিল সেটা ছিল দৃষ্টান্ত মুলক ঘটনা। তার থেকে প্রাপ্ত মুনাফা গোটা মানব জাতির কল্যানে লাগাতে হবে। রত্তের দামে অর্জিত মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের প্রতিক মাতৃভাষা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষনা করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পারে বিশ্বে মানব ভাষার অস্থিত্ব লড়াইয়ে সাথি হতে।

সভ্যতা কারো একার হাতে গরে উঠেনি। মানব জাতির এগিয়ে চলার কাজে কেউ কখনো আবিস্কার করেছে, কেউ করেছে নির্মাণ। কেউ বা কোন কিছু না গড়ে বুকের রক্ত দিয়ে করে গেছে প্রতিরক্ষার কাজ। অথচ সভ্যতার প্রতিটি প্রাপ্তিতে সকলের সমান অংশ। ১৯৫২ সালের সেই মহান ঘটনা বিশ্ব তাৎক্ষনিক ভাবে কিছুই জানতে পারেনি। এমন কি আশ পাশের দেশগুলোর কাছেও কথাটা ছড়িয়ে পরেনি যেমনটি হওয়া উছিৎ ছিল। হিরোশিমা নাগাসাকি কিংবা শিকাগো শহরের শ্রমিকদের আত্মোহতির কথা যেমন করে ছড়িয়ে পরছিল ঠিক তেমন করে জাপান কোরিয়া অস্ট্রেলিয়া বুলগেরিয় সহ বিশ্বের সর্বত্র সালাম রফিক বরকতেদের রক্ত ঝড়ানো গানও কন্ঠে তুলে দেয়া খুব প্রয়োজন ছিল। তাতে লাভের মধ্যে যে লাভটা হতো তাহলো, মানব জাতির আরো কিছু ভাষা হয়তো ধংশের হাত থেকে বেঁচে যেত পারত।

১৯৫২ সালে ঘোদ ঢাকা শহরের কিছু কিছু মানুষ ভেবেছিল ঘটনাটা ছিল নেহায়েত ছাত্র পুলিশের দন্দ। অথচ দেখুন, ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলি ও হত্যরা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিশেষ দিনটি আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে প্রজ্বলিত শিখা ও ফুল নিয়ে স্থায়ি অস্থায়ি শহিদ মিনারে এসে হজির হয়। সাদা কালো সকল শ্রেনি ও পেশার মানুষ ঠোট নেড়ে নেড়ে বলে, “আমি কি ভুলিতে পারি”।

আসি বিশ্ব ছুটির প্রসংগে। এখন পর্যন্ত একটি নির্দিস্ট দিনে বিশ্বের সকলে এক সাথে ছুটি উপভোগ করে না। ধর্ম সংস্কৃতি জাতিয়তাবাদ সহ বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববাসী বিভিন্ন দিনে ছুটি কাটায়। যে কোন সরকারি ছুটিকে উপলক্ষ্য করে ঢালাও ভাবে সেই দিনের মহিমা ও তাৎপর্য প্রচার করা হয়। ছুটিকে কেন্দ্র করে উৎসব আনন্দ আলোচনা সচেতনাতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সম্পৃত্ত হয়ে উঠি। এ ভাবেই তৈরী হয় একতা ও শত্তি।

আসুন আমরা যে যার জায়গা থেকে চেস্টা করে যাই যাতে আনতর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্ব ছুটি দিবস প্রতিষ্ঠা করা যায়। ইতিহাসের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলে দেখা যাবে অতীতে মানবতার স্বপক্ষে যে সমস্ত কাজ করা হয়েছিল দেরিতে হলেও তার প্রায় সবগুলো আলোর মুখ দেখেছে। তাই আজ কিংবা কাল বিশ্ব ছুটি দিবসও একদিন আলোর মুখ দেখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মানব সভ্যতাকে গড়ার পেছনে বাংলাদেশের জনগন হয়তো তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আবিস্কার করতে পারেনি। হয়তো তেমন নির্মাণ তাদের হাত দিয়ে গড়ে উঠেনি। তবে, মানব জাতীর সবচেয়ে বড় সম্পদ মাতৃভাষার বিপদের দিনে বাংলাদেশের মানুষ এগিয়ে এছেছিল বুক উচিয়ে। তারপর মাতৃভাষা দিবসের আন্তর্জাতীয়করনও বাংলাদেশের নেতৃত্ব রয়েছে। এখন বিশ্ব ছুটি দিবসকে বাস্তবতা দিতে বিশ্বের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এক সাথে।


More information on International Mother Language Day.

Photography by Naser Imran Hossain

Text by Akhtar Hossain

Design and concept was by me and Hassan Saad Ifti

Many thanks to my friends for helping me out with this artwork for such a special occasion.

About sami

Hassan Sami Adnan is a Medical student at the University of Göttingen (Georg-August-Universität Göttingen), Germany and an Apple Enthusiast/Expert. Owner of the Med Blog of nerves and arteries that features medical technology related posts for young doctors and medical students, this technology blog, the digital abrasion is also one of his passion. Sami has years of Web development and design experience as his hobby. Personal Website
Comments (2) Trackbacks (3)
  1. The writeup looks exquisite. ভালো লাগলো।

  2. আখতার ভাই, আপনার আর্টিকেলটা আজ-ই পড়লাম। খুব ভালো লেগেছে, ও যুক্তি সংগত। আপনার প্রস্তাবটা বহুল প্রচারের জন্য কিছু সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা যায় কি-না যেখানে মেইন স্ট্রীম পত্রিকাগুলোর সাংবাদিক, কলামিস্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এই জাতীয় লেখাগুলো মেইন স্ট্রীম পত্রিকাগুলোতেও ছাপানোর ব্যবস্থা করা যায় কি-না তার চেষ্টা করেন। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করার জন্য সাহায্যের দরকার হলে আমরা সব-সময় প্রস্তুত। ধন্যবাদ – মনির/শান্তা, এজাক্স, অন্টারিও, কানাডা


Leave a comment


Enable Google Transliteration.(To type in English, press Ctrl+g)

This site is protected by WP-CopyRightPro